কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়, মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ানো অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় একটি লক্ষ্য, বিষেশ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে চিকন শরীর ভোগছেন। মোটা হওয়া বলতে শুধুমাত্র অস্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন বাড়ানো নয়?

কিভাবে-মোটা-হওয়া-যায়


মোটা হওয়া বলতে বোঝানো হয়েছে, শারীরের শক্তি, পুষ্টি ও সামগ্রিক সক্ষমতা উন্নত করাকে বোঝানো হয়েছে। সঠিক ভাবে ওজন বাড়ালে শরীর বেশি কর্মক্ষম হয় এবং দৈনন্দিন কাজ করা আমাদের জন্য সহজ হয়।

পেজ সুচিপত্রঃ কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়, আমাদের মধে অনেক মানুষ আছে যাদের স্বাস্থ্য অনেকটা রোগা, পাতলা বা চিকন। তারা তাদের শরীর বা স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তা করে। তবে মোটা হওয়া বা ওজন বাড়ানো অনেকের জন্য প্রয়োজনীয় একটি লক্ষ্য। এখানে মোটা হওয়া বলতে অস্বাস্থ্যকর ভাবে ওজন বাড়ানো নয়, বরং বোঝানো হয়েছে শরীরের শক্তি, পুষ্টি ও সামগ্রিক সক্ষমতা কে উন্নত করাকে বোঝানো হয়েছে।

আমরা যদি সঠিক ভাবে ওজন টা বৃদ্ধি করি তাহলে আমাদের জন্য ভালো। কারণ সঠিক ভাবে ওজন বৃদ্ধি করলে আমাদের শরীর বেশি কর্মক্ষম হয় এবং দৈনন্দিন কাজ করা সহজ হয়। আমরা অনেকেই আছি যারা দ্রুত ফল পেতে চায়, কিন্তু ওজন বৃদ্ধি একটি ধীর চলমান প্রক্রিয়া। তবে তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ঝুকিঁ বাড়ে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়ায়।

এই কনটেন্ট টিতে এমন সব পদ্ধতিগুলো আলোচনা করা হয়েছে যা আমদের জন্য বাস্তবসম্মত, নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদে ফলদায়ক। এবং এই পদ্ধিতিগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সহজে প্রয়োগযোগ্য যাতে আমরা কোন চাপ ছাড়ায় ধাপে ধাপে এগোতে পারি।

ওজন না বাড়ার পেছনের কারণগুলো জানা জরুরি

ওজন না বাড়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তা আমরা অনেকেই জানি না যেমন অনিয়মিত খাবার, খম ক্যালরি গ্রহন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম কিংবা পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব-এসব সাধারণ কারণ। যেমন আমরা কি করছি সেটা না বুঝে করলে হতাশা বাড়ে।

তবে কিছু কিছু মানুষের বিপাক প্রক্রিয়া দ্রুত হয়, তাই সে যতই খাবার খাক না কানো সহজে তার ওজন বাড়াতে পারবে না। এটি বংশগত হতে পারে। তবে সঠিক কৌশল বা চিকিৎসা নিলে এখনোও ধীরে ধীরে উন্নতি বা পরির্বতন করা সম্ভব

স্বাস্থ্য না বাড়ার পিছনে আরও বড় একটা কারণ রয়েছে। যা হলো মানসিক চাপ এই মানসিক চাপ আমাদের কে এমন ভাবে ঘিরে রেখেছে যা আমাদের কে শুধু মাত্র মানসিক চাপ নয় তার পাশাপাশি আমাদের স্বাস্ব্যকেও নষ্ট করে দিতেছে। তাই এই মানসিক চাপ থেকে দুরে থাকতে হবে বা কমাতে হবে তবেই একটু হলেও পরির্বতন হতে পারে।

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়া

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়। আমরা হয়তো বা জানি যে আমাদের শরীরের ওজন বাড়াতে হলে নিয়মিত খাবার খাওয়া অপরিহার্য। কারণ খাবার আমাদের শরীরের শক্তি বা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। দিনে তিন বেলা প্রধান খাবার এর পাশাপাশি মাঝখানে হালকা নাস্তা করলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়।

খাবার খাওয়া কমিয়ে দিলে বা দেরিতে খেলে আমাদের শরীর ঘাটতিতে পড়ে। নিয়মিত বা সময়মতো খাবার খেলে শরীর ক্ষুধার সাথে অভ্যস্ত হয়। এতে করে আমাদের খাবার গ্রহণ সহজ হয়, এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এবং পাশাপাশি অনিয়মিত খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধিকে ধীর করে।

পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার গুরুত্ব

শুধুু বেশি খাওয়া নয়, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বা বেছে নেওয়াই আসল কৌশল। আমরা যদি খাবার টা একটু ভেবে চিন্তে খায় তাহলে আমাদের জন্য ভালো বা আমদের শরীরের জন্য অনেক ভালো। যেমন পুষ্টিকর খাবার বেছে খেলে ভালো। তার মধ্যে যেগুলো বলা যায় যেমন: ভাত, রুটি, আলু, ডাল, ডিম, দুধ ও মৌসুমি ফল এসব ইত্যাদি।

আরো পড়ুনঃ জীবনধারা/Motivation

আমারা সকলেই জানি যে আমাদের ঘরের তৈরিকৃত খাবার বেশি নিরাপদ বা উপকারী। এবং এই খাবার গুলোতে অপ্রয়োজনীয় উপাদান কম থাকে এবং অধিক পুষ্টি বজায় রাখে। এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র রাখলে উপকার বাড়ে। তবে আমরা চেষ্টা করবো বাহিরের খাবার না খেয়ে ঘরের খাবার খাওয়া।

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের প্রভাব

ঘুম শরীরের পুণর্গঠনের সময়। আমরা যতই খাবার খাই না কানো যদি সময় মতো আমাদের শরীরকে বিশ্রাম না দেই বা আমরা পর্যাপ্ত পরিমান না ঘুম হলে আমরা যে খাবার টা খায় সেই খাবারের পুষ্টিটা আছে সেটা কাজ করে না। তাই আমাদের সকলের উচিত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো গুরুত্বপূর্ণ।

রাত জাগা বা অনিয়মিত ঘুম শীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়লে দ্রুত তার সাথে আমরা পরির্বতন দেখতে পারি। ভালো ঘুম শরীরের শক্তি বাড়ায় পাশাপাশি আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে তাই ঘুম শরীরের জন্য অনেক জরুরি একটা বিষয়।

পানি পান করার সঠিক নিয়ম অনুসরন করা

পানি পান করার সঠিক নিয়ম মেনে চললে আমাদের ওজন বাড়ানো সম্ভব। কারণ শরীরে পর্যাপ্ত পরিমান পানি থাকলে দ্রুত ও সহজে হজম এবং খাবারের ভিতরের ক্যালোরি ও পুষ্টি উপাদান শরীর ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে। যারা খুবই চিকন তাদের ক্ষেত্রে পানির অভাবে ক্ষুধা কমে যায়, ফলে প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া হয় না এবং ওজন ও বাড়ে না।

ওজন বাড়াতে চাইলে কখন পানি পান করা হচ্ছে, সেই দিক টাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানি পান করলে হজম শক্তি বাড়ে এরং খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। খাবারের ঠিক আগে বা খাবারের পরে অতিরিক্ত পানি পান না করে, খাবারের ৩০ মিনিট পর পানি পান করলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়।

এই নিয়মে পানি পান করলে আমাদের জন্য অনেক ভালো। যেমন খাবারের সময় কিছুটা পানি পান করা এবং খাবারের ৩০ মিনিট পরে পানি পান করলে সেই খাবার টা ভালোভাবে হজম হয়। পাশাপাশি শরীর বেশি পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে, যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।

হালকা নিয়মিত ব্যাম করা দরকার

অনেকেই মনে করেন ব্যায়াম করলে ওজন কমে যায়, কিন্তু বাস্তবে হালকা নিয়মিত ব্যায়াম করলে ওজন বাড়াতেও সাহায্য করে। সঠিক ধরনের ব্যায়াম শরীরের পেশিগুলোকে সক্রিয় বা সচল করে রাখে এবং খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। যারা খুব চিকন, তাদের জন্য হালকা ব্যায়াম করা শরীর গঠনের জন্য বেশি উপকারী।

নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম খুবই জরুরি। কারণ ব্যায়ামের পর বিশ্রামের সময়ই পেশি গঠন হয় এবং শরীর নিজেকে শক্তিশালী করে। হালকা নিয়মিত ব্যায়াম। এবং পুষ্টিকর খাবার খেলে পাশাপাশি সঠিক জীবনযাপন একসাথে করলে ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধিতে বা স্থায়ীভাবে মোটা হওয়া সম্ভব।

অস্বাস্থ্যকর উপায় এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায়, ওজন বাড়ানো জন্য অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অস্বাস্থ্যকর উপায় বেছে নেন, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি কারণ হতে পারে। যেমন: অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং ওষুধ বা কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার সাময়িকভাবে ওজন বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে শরীর দুর্বল করে তলে। তাই সুস্থভাবে মোটা হতে চাইলে এসব ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

অস্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ালে শরীরে চর্বির পরিমান অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যায়, কিন্তিু পেশি ও শক্তি বাড়ে না। এর ফলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্য দেখা দেয় যেমন: ক্লান্তি, হজম সমস্যা এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ মাটি ও পরিবেশের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ফসল নির্বাচন

তাই সঠিক খাদ্যভ্যাস, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। অস্বাস্থ্যকর পথ এড়িয়ে চললে শরীর খাবরের পুষ্টি ভালোভাবে করতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধি স্থায়ী হয়। এই নিয়ম মেনে চললে শরীর যেমন সুস্থ্য থাকবে, তেমনি ওজনও স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি হবে।

সুস্থ্যভাবে মোটা হওয়ায় আসল লক্ষ্য

সুস্থভাবে মোটা হওয়ার আসল লক্ষ্য শুধু শরীরের ওজন বাড়ানো নয়, বরং শরীরকে শক্তিশালী, কর্মক্ষম ও রোগপ্রতিরোধক্ষম করে তোলা। অনেক সময় আমরা দ্রুত ওজন বাড়ানো জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ভুল অভ্যাসের দিকে ঝুকে পড়ে, যা সাময়িক ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদি শরীর ক্ষতি করে।

সঠিক উপায়ে ওজন বাড়াতে হলে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা, নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের প্রয়োজন। এই পদ্ধতিতে শরীর খাবারের পুষ্টি সঠিক ভাবে ব্যবহার করে পেশি ও শক্তি গঠন করে, অতিরিক্ত চর্বি জমা করে না। ফলে শরীর দেখতে ভালো লাগে।

সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য ধরা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। কারণ সুস্থ্যভাবে মোটা হওয়া কোন দ্রুত প্রক্রিয়া নয়, এতে সময় লাগে। সঠিক নিয়ম মেনে জীবনযাপন করলে ধীরে ধীরে ওজন বাড়ে। এবং সেই ওজন দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী হয় যা সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

লেখকের মন্তব্য

কিভাবে মোটা হওয়া যায় তার সহজ উপায় আমরা সকলেই চাই একটি স্বাস্থ্যবান শরীর। তবে সেটি হতে হবে সঠিক নিয়মে, কারণ আমরা যদি আমাদের ওজন বাড়ানোর জন্য দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য ভুল অভ্যাস গড়ে তুলি তাহলে আমদের জন্য তা ঝুকি পূর্ণ হয়ে দাড়াবে। তাই আমরা ভুল পথ থেকে দুরে সরে সঠিক পথটি বেছে নিই তবেই আমাদের জন্য ভালো।










এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

কামরুল আইটি অনলাইন নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url